নামবি নারায়ণন, একজন বিশ্বাসঘাতক অপরাধী নাকি দেশের উন্নতির অগ্রদূত? ( The man behind the movie Rocketry )
পহেলা জুলাই 2022 এ রিলিজ হতে চলেছে একটি নতুন মুভি Rocketry: the Nambi effect.... Movie টির ডাইরেক্টর, অ্যাক্টর, রাইটার এবং কো প্রোডিউসার দক্ষিণ ভারতের একজন বিখ্যাত অভিনেতা R Madhavan। তাকে আশা করি আপনারা সকলেই চেনেন, তিনি 3 Idiots movie এর Farhan Qureshi ! বিভিন্ন দেশে Rocketry মুভিটির shot নেওয়া হয়েছে। যেমন ইন্ডিয়া, জর্জিয়া, রাশিয়া, সার্বিয়া, ফ্রান্স প্রভৃতি। মুভিটি একটি বায়োপিক। কিন্তু জানেন কি বায়োপিক টি কার? অথবা স্যার আবদুল কালাম, বিক্রম সারাভাই, সতীশ ধাওয়ান প্রমুখ ব্যক্তিদের নাম তো আপনারা প্রায় সকলেই শুনেছেন। কিন্তু যদি বলি নামবি নারায়নন ? নামটা শুনেছেন কখনো? আপনাদের মধ্যে 90% লোকই বলবে যে তারা শুনেননি। কিন্তু এই বিষয়টি সত্যিই বড় লজ্জার। আজ যে আমাদের ISRO একের পর এক মহাকাশ যান মহাকাশে পাঠিয়ে চলেছে-PSLV, GSLV, তার কোনোটিই সম্ভব হতো না যদি না এই মানুষটি থাকতেন। কিন্তু এই মানুষটি জীবনে কি পুরস্কার পেয়েছিল জানেন?? 50 দিনের টর্চার, একমাস মতো জেলে কারারুদ্ধ, অপরিসীম লাঞ্ছনা এবং “বিশ্বাসঘাতক" উপাধি।
এই মুভিটি তৈরীর জন্য ডাইরেক্টর সহায়তা নিয়েছিলেন নামবি নারায়ণনের অটোবায়োগ্রাফি “Ormakalude Bhramanapadham" এবং অরুন রামের অফিশিয়াল বায়োগ্রাফি থেকে।
আপনারা চাইলে এই মহান ব্যক্তিটির english autobiography টি পড়তে পারেন। বরং আমি তো বলব, ভারতবর্ষের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO এর ইতিহাস এবং এই ব্যক্তিটির সম্পর্কে আরো বিশদে জানতে আপনাদের প্রত্যেকের এই বইটি পড়া উচিত। বইটির মূল্যও খুব বেশি নয়, মাত্র 250 টাকা। নিচে বইটির নাম সহ লিংক দেওয়া রইল, আপনারা এখান থেকে সরাসরি বইটি ক্রয় করতে পারবেন........
Nambi Narayanan এর জন্ম হয়েছিল তামিলনাড়ুর নাগেরকোল নামক শহরে। তাদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তিনি NASA fellowship পেয়েছিলেন এবং 1969 সালে আমেরিকার প্রিন্সেটন ইউনিভার্সিটি তে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলেন। Luigi Crocco এর অধীনে মাত্র 10 মাসের মধ্যে নিজের মাস্টার্স প্রোগ্রাম তিনি সম্পন্ন করেন। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA তাকে জব অফার' করলেও তিনি সেটিকে সসম্ভ্রমে প্রত্যাখ্যান করে দেন। তিনি চেয়েছিলেন দেশের অগ্রগতির পথিক হতে। তাই বুকে একরাশ স্বপ্ন এবং liquid propulsion এর প্রভূত জ্ঞান নিয়ে তিনি ভারতবর্ষে ফিরে আসেন যখন ভারতের রকেট্রি solid propellant এর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল। তিনি cryogenic engine এর আইডিয়া নিয়ে আসেন যখন এপিজে আবদুল কালাম এবং তার দল solid Motors এর উপর কাজ করছিলেন। নামবি নারায়ানন ছিলেন একজন ভবিষ্যৎদ্রষ্টা এবং দূরদর্শী ব্যক্তি। তিনি অনুভব করেছিলেন যে ভারতের রকেট্রিতে cryogenic engine তেই রয়েছে ভবিষ্যৎ। সত্তরের দশকে তিনি প্রথম লিকুইড ফুয়েল টেকনোলজি ইন্ট্রোডিউস করেন ভারতে। তার অসাধারণ কাজের জন্য সতীশ ধাওয়ান এবং VR Rao তার প্রভূত প্রশংসা করেন। এবার আপনারা ভাববেন Cryogenic engene টা আবার কী? তাহলে বলছি শুনুন......
ক্রয়োজেনিক স্টেজ হলো স্পেস লঞ্চের ফাইনাল স্টেজ যাতে cryogenics ব্যবহার করা হয়। cryogenics হল সেই পদ্ধতি যেখানে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় (-150°c) কোন পদার্থ উৎপন্ন করা হয়। অন্যান্য প্রপেলান্ট এর চেয়ে এই ইঞ্জিন অনেক বেশি শক্তি সরবরাহ করে। ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনে যথাক্রমে -183°c এবং -253°c উষ্ণতায় তরলীকৃত liquid oxygen এবং liquid hydrogen ব্যবহার করা হয় প্রপেলান্ট হিসেবে। Lox, LH2 তাদের নিজ নিজ ট্যাংকে সংরক্ষণ করা থাকে।
নামবি নারায়ণন এবং তার সহকারীরা মিলে নির্মাণ করেন “বিকাশ ইঞ্জিন" যা PSLV rocketকে শক্তি প্রদান করে। এই বিকাশ ইঞ্জিনের দৌলতে PSLV rocket এর সহযোগিতায় প্রথম Chandrayan 1 নিক্ষেপিত হয় 2008 সালে। কিন্তু এই মানুষটি যিনি ভারতবর্ষকে মহাকাশ বিজ্ঞানে এতটা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার চেয়ারম্যান হতে পারতেন সেই মানুষটিকে কোনো সম্মান তো প্রদান করা হয়নি বরং তার সাথে যা হয়েছে আক্ষরিক অর্থে তা অন্যায়-অবিচার ।
তাকে একটি মিথ্যে কেসে ফাঁসি দেওয়া হয়। তার উপর আরোপ লাগানো হয় যে তিনি পাকিস্তানের একজন গুপ্তচর এবং তিনি নাকি কিছু টাকার জন্য ভারতবর্ষের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার গোপন তথ্য গুলো পাকিস্তানের কাছে পাচার করে দেন। আসলে মনে করা হয় এই সম্পূর্ণ ঘটনার পেছনে আমেরিকা কিংবা ফ্রান্সের একটি বিরাট হাত আছে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিপক্ষে প্রত্যক্ষ প্রমাণ তো পাওয়া যায়নি তবে চিন্তাবিদেরা এটুকু নিশ্চিত করেছেন যে এই সম্পূর্ণ ঘটনার পেছনে কোনো না কোনো বৈদেশিক শক্তির হস্তক্ষেপ রয়েছে ।
আসুন ঘটনাটা বরং বিস্তারিত বলি,
আসলে 1994 সালের অক্টোবর মাসে তিরুবন্তপুরম এ মালদ্বীপের একজন মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়। তার নাম Mariam Rasheeda। তার কাছ থেকে মহাকাশ গবেষণা সংস্থার নানা গোপন পুঁথি এবং রকেটের বিভিন্ন ডিজাইন পাওয়া যায়। এবং মনে করা হয় যে সেই মহিলাটি এই সমস্ত তথ্য পাকিস্তানে পাচার করতেন। সে সময়ে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার ক্রায়োজেনিক বিভাগের প্রধান ছিলেন নামবি নারায়নন। ফলে অনেকটা সন্দেহ তার ওপর দিয়ে পড়ে। এবং ফলস্বরূপ পরবর্তী মাসেই নামবি নারায়নন সহ শশী কুমারন এবং ডেপুটি ডাইরেক্টর কে. চন্দ্রশেখর কে পুলিশ গ্রেফতার করে। মনে করা হয় নামবি নারায়নন পাকিস্তানের একজন স্পাই। নারায়নন এবং শশী কুমারনের উপর প্রধান আরোপ ছিল যে তারা মিলিয়ন ডলারের জন্য এগুলি পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করে দেন। তারপর থেকেই শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার।
কোনরকম প্রমাণ না পাওয়া সত্ত্বেও সংবাদপত্রগুলো সরাসরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। এছাড়াও এস কে শর্মা, একজন labour contractor এবং ওই মালদ্বীপের মহিলাটির একজন বান্ধবী ফইজিয়া হাসান কে গ্রেফতার করা হয়। 50 দিন ধরে তার উপর অত্যাচার এবং মানসিক নির্যাতন চলে, দিনরাত পুলিশের জেরা চলে। সেই সময়গুলোতে বাড়ি থেকে বেরোলে লোকটাকে সকলে বিশ্বাসঘাতক বলে বিদ্ধ করত, কোন গাড়িতে উঠলে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হতো, তার স্ত্রী বাজারে গেলে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হতো। যিনি নিজের দেশকে ভালোবেসে আমেরিকার প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে ভারতবর্ষে ফিরে এসেছিলেন সেই মানুষটিকেই ভারতবর্ষের মানুষেরা চিনতে ভুল করেছিল।
এরপর তদন্তে অবতীর্ণ হয় CBI....... সুদীর্ঘ তদন্তের পর 1996 সালে Central Bureau of Investigation ওনাকে নির্দোষ বলে অভিহিত করে। সুপ্রিম কোর্ট CBI এর এই রিপোর্টকে মেনে নেয় এবং জানিয়ে দেয় যে Nambi Narayanan is not guilty!! কিন্তু তবুও দুর্ভোগের মেঘ কাটেনি, তার বদনামও ঘোচেনি। এরপর কেরলের কমিউনিস্ট সরকার পুনরায় এ বিষয়ে আপিল করে সুপ্রিম কোর্টে। কোর্টে ফের শুনানি হয়ে নামবি নারায়নকে সামান্য কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু 1999 সালে নামবি নারায়নন পুনরায় কোর্টে আপিল করেন ক্ষতিপূরণ এর জন্য। যেভাবে একটা মিথ্যা কেসে ফাঁসিয়ে ওনার ক্যারিয়ার ধ্বংস করা হয় এবং দিনের পর দিন ওনাকে নির্যাতন সহ্য করতে হয় তার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
2017 সালে সেই সমস্ত পুলিশের বিরুদ্ধে কোর্টে কেস চলে যারা মিথ্যা মামলায় ওনাকে ফাঁসিয়ে ছিলেন। অবশেষে 2019 সালে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ নামবি নারায়ননকে পদ্মভূষণ পুরস্কার এ ভূষিত করেন। প্রায় 24 বছর পর তিনি তার প্রাপ্য সম্মান ফিরে পান।
এবার প্রশ্ন ওঠে যে এতে বৈদেশিক শক্তির হাত কিভাবে?? তবে শুনুন,
ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিনের টেকনোলজি ভারতবর্ষে আনবার জন্য রাশিয়ার সাথে একটি agreement সাইন করবার কথা ছিল। এই একই টেকনোলজি আমেরিকা ভারতকে দিতে চেয়েছিল 950 কোটি টাকায় এবং ফ্রান্স দিতে চেয়েছিল 650 কোটি টাকায়। কিন্তু সেই টেকনোলজি রাশিয়া ভারতকে দিতে রাজি হয়েছিল 250 কোটি টাকায়। সেই সময় রাশিয়ার মিত্রতার জন্য ভারত সত্যিই কৃতার্থ। কিন্তু বাঁধ সাধলো আমেরিকা। ভারতের একের পর এক উন্নতি দেখে ভারত যাতে আমেরিকাকে সরাসরি compete করতে না পারে তার জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট George HW Bush রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এবং তাদের প্রচণ্ড চাপের কাছে দমে যেতে বাধ্য হয় রাশিয়ার Boris Yeltsin। এবং সেই টেকনোলজি ভারতবর্ষকে দিতে রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করে।
কিন্তু তবুও দমে যায়নি ভারতবর্ষের অদম্য সাহসের অধিকারী বিজ্ঞানীগণ। তারা ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যান, এবং তারা রাশিয়ার সাথে অপর একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে সমর্থ হন। যেখানে রাশিয়ার পক্ষ থেকে চারটি ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন ভারতবর্ষে আসার কথা ছিল।
কিন্তু সেই মুহূর্তেই ঘটল এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা। এমনকি তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দাবি করেছিলেন যে ভারতবর্ষের ওপর বিদেশী শক্তির কুনজর পরেছে। নামবি নারায়ণন নিজের অটোবায়োগ্রাফিতেও দাবি করেছিলেন যে সমস্ত ঘটনার পেছনে আমেরিকা কিংবা ফ্রান্সের হাত রয়েছে। 1999 সালের মধ্যে ভারতবর্ষের মহাকাশ গবেষণায় যে উন্নতি সাধন হতে পারতো এবং ভারতে যে টেকনোলজি পাকাপাকিভাবে চলে আসতে পারতো তা এই ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার কারণে এতটাই পিছিয়ে যায়, যে সেই উন্নতি ভারতবর্ষে আসতে সময় লাগে 2014 সাল অব্দি।
এই ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার কারণে ISRO প্রায় 15 বছর পিছিয়ে যায়!! সেদিন যদি ভারতের মানুষেরা ওনাকে একটু বিশ্বাস করত অথবা সেই টেকনোলজি যদি ভারতে কার্যকর হতে সমর্থ হতো তবে আজ ইসরো কয়েকগুণ এগিয়ে থাকত।
এভাবেই বারংবার বৈদেশিক শক্তির ষড়যন্ত্রের কাছে ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ISRO এর জনক বিক্রম সারাভাই ও ভারতবর্ষের নিউক্লিয় গবেষণার জনক হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার রহস্যময় মৃত্যু , 2009-2013 এর মধ্যে 11 জন নিউক্লিয় বিজ্ঞানির রহস্যময় মৃত্যু, নামবি নারায়নন, তপন মিশ্র এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র - এ সকল কিছুর সাক্ষী। যাদবপুর ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট এবং ISRO এর অধীনে স্পেস এপ্লিকেশন সেন্টার এর ডাইরেক্টর তপন মিশ্রকেও দুইবার বিষ দিয়ে হত্যার প্রচেষ্টা হয়েছিল। প্রথমবার আর্সেনিক ট্রাই অক্সাইড এবং দ্বিতীয়বার হাইড্রোজেন সায়ানাইড। এমন কি নামবি নারায়নকে যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয় ISRO এর অন্যান্য উচ্চস্থানীয় কর্তাদের উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তিনি সেটি করতে প্রত্যাখ্যান করলে তার উপর দৈহিক নির্যাতন চালানো হয়। সেই নির্যাতনের জেরে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আপনারা চাইলে বিক্রম সারাভাইয়ের এই biography টি পড়তে পারেন.......
আর কতকাল চলবে এমন ভাবে? যখনই কোনো developing country উন্নতির পথে এগিয়ে যায় তখনই শক্তিধর বৈদেশিক শক্তিগুলো তাকে রুদ্ধ করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু এমনটা কতদিন চলবে? আমাদের মত সাধারন মানুষদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে....... নিজের দেশের বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদদের সমর্থন করতে হবে, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই একদিন ভারতবর্ষে হয়ে উঠবে সারা বিশ্বের superpower!!
এটি Intellectual Mind বিভাগের অন্তর্ভুক্ত আরেকটি নতুন আর্টিকেল..... আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করুন এবং আর্টিকেলটি শেয়ার করুন







Great writing with proper reasearch !!
ReplyDeleteFabulous!
Thank You ❤️❤️
Deleteসত্যি ভাই খুব ভালো একটা সত্যঘটনা সবার সামনে তুলে ধরেছিস। আরো এইরকম লেখা লিখতে থাক ❣
ReplyDeleteখুব ই ভাল সৌরভ । এইভাবেই এগিয়ে চল, আমরা সবসময় পাশে আছি🥰💓
ReplyDeleteOssum ✨✨
ReplyDeleteThank you ❤️❤️
DeleteThank you ❤️❤️
DeleteThank You ❤️❤️
DeleteAwesome🔥
ReplyDeleteAwesome ❤️
ReplyDeleteঅসাধারণ ❤❤ তথ্য সমৃদ্ধ এমনি প্রচুর আর্টিকেল লিখতে থাকুন
ReplyDeletethank you bro bhalo bhalo information share korar jonno
ReplyDelete