Where is lithium found in india? India Lithium Reserves : Lithium production in India, a treasure for the future
আপনারা হয়তো ভাবছেন, কিসের আবার গুপ্তধন? গুপ্ত যুগের ধনরত্ন নাকি সম্রাট অশোকের লুক্কায়িত কোনো সম্পদ! এই গুপ্তধন হলো আসলে এক বৃহৎ লিথিয়াম ভান্ডার! আজ্ঞে হ্যা! 9th February, 2023 এর announcement অনুসারে জম্মু-কাশ্মীরে Salal-Haimana area তে পাওয়া গেছে 5.9 million ton এর এক বৃহৎ লিথিয়াম ভান্ডার!
আপনার ভাবছেন এটা আবার গুপ্তধন কিভাবে হলো? আসুন তবে এ বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা যাক!
আসলে এই লিথিয়াম থেকেই তৈরি হয় lithium ion battery! আজ আপনার চারপাশে আপনি যা কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি দেখতে পাচ্ছেন যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, বাচ্চাদের রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, বিভিন্ন খেলনা থেকে শুরু করে ধন কুবের Elon Musk এর Tesla cars.... এই সমস্ত কিছুতেই ব্যবহৃত হয় Lithium ion battery!
আপনি জানলে অবাক হবেন বিশ্বের প্রথম ব্যাটারি তৈরি হয়েছিল 1800 খ্রিস্টাব্দে! এরপর প্রথম rechargeable battery তৈরি হয় 1859 সালে! কিন্তু ওই ব্যাটারিগুলোর সবগুলোই ছিল lead acid battery! যা বর্তমানেও বিভিন্ন গাড়িতে ব্যবহৃত হয়! কিন্তু ব্যাটারিগুলো আকৃতিতে খুব বড়, বেশ ভারী এবং তুলনামূলক কম ক্যাপাসিটি সম্পন্ন হয়।
সৌদি আরব,ইরাক, ইরান প্রভৃতি দেশগুলি খনিজ তেলে দারুণভাবে সমৃদ্ধ! ফলে 1973 সালে সৌদি আরবের সরকার নিজের ইচ্ছে মতো খনিজ তেলের দাম বাড়াতে শুরু করে। ফলে আমেরিকা সৌদি আরবের সাথে একটি petrodollar agreement sign করে। ফলের পর থেকে খনিজ তেলের দাম ডলারে গন্য হতে শুরু করে। কিন্তু এই ঘটনার পর আমেরিকা খনিজ তেলের উপর এতটা নির্ভরশীল না থেকে বিকল্প পন্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে। কিভাবে এনার্জিকে স্টোর করে রাখা যায় সেটা নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়। এরপরই lithium ion battery আবিষ্কৃত হয় University of Texas এ গবেষকদের একটি দলের দ্বারা যাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন John Goodenough। তারা পর্যবেক্ষণ করে দেখলেন Lithium Cobalt oxide কে cathode material হিসেবে ব্যবহার করলে এবং Lithium ions কে charge carriers হিসেবে ব্যবহার করলে অনেক বেশি স্থায়ী এবং কর্মক্ষম ব্যাটারি তৈরি করা সম্ভব যা গাড়িতে ব্যবহার করা অন্যান্য ব্যাটারির তুলনায় অনেক বেশি ছোট এবং হালকা। কিন্তু এই লিথিয়ামের ভান্ডার সমস্ত দেশে পাওয়া যায় না। প্রধানত Bolivia,Chilli এবং Argentina তে এর বেশ বড় ভান্ডার রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এদের কাছে resources থাকলেও extract করার capacity নেই! সে কারণে এই দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবেও খুব একটা সবল নয়। ফলে এরা খনিজ লিথিয়ামের রপ্তানি করে থাকে কিন্তু নিজেরা ব্যাটারি নির্মাণ করে না।
এই কাজটি করে থাকে চীন! সারা বিশ্বের প্রায় 80% Lithium ion battery তৈরি হয় চীনে। ফলে চীন নিজেরা এটির আবিষ্কার না করলেও উন্নত টেকনোলজির সুবাদে এটার সম্পূর্ণ সুযোগ উঠে নেয় তারা। Elon Musk তথা আমেরিকাকেও এজন্য চীনের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়।
সুতরাং এখানে দেখা যাচ্ছে, lithium ion battery এর আবিষ্কর্তা আমেরিকা, বাণিজ্যিকরণে জাপান, পদার্থ যোগানে আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া প্রমুখ দেশ এবং উন্নত টেকনোলজির মাধ্যমে প্রস্তুতকরনে চীন!
কিন্তু যদি এমন কোনো দেশ থাকে যার জনসংখ্যা বিপুল! এমন দেশ যা মোবাইলের জন্য সারা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম মার্কেট, এবং এ পদার্থের একটি বৃহৎ ভান্ডারেরও অধিকারী, বিপুল man power! তাহলে??
আজ্ঞে হ্যা, ভারতের কথাই বলছি! এটাই তো আমাদের বিশেষত্ব! USA তে যেমন Tesla রয়েছে, তেমন আমাদের দেশে রয়েছে Tata, Mahindra যারা বর্তমানে electric vehicles নির্মাণে দারুন গুরুত্ব আরোপ করেছে। Nitin Gadkari বলেছেন 2030 সালের মধ্যে ভারতের এক তৃতীয়াংশ গাড়ি হয়ে উঠবে electric vehicles! কিন্তু সে ক্ষেত্রে Lithium ion batteries আমদানি করতে হবে চীন থেকে। ফলে এইবার প্রয়োজন ভারতেই এই Lithium ion battery manufacture technology develop করা। এটা করতে পারলে আগামীতে আসন্ন ইলেকট্রিক যুগে ভারতবর্ষেরও এক আধিপত্য বিরাজ করবে।
শুধু ব্যাটারি নির্মাণ নয়, এর পাশাপাশি recycle Technology ও develop করতে হবে। যাতে ব্যবহারকৃত ব্যাটারিগুলোকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়, সেখান থেকে পরিবেশ দূষণও না হয়, আবার সম্পদেরও পুনর্ব্যবহার হয়।
ভারতবর্ষ অলরেডি 2020-21 সালে 88 billion Lithium ion batteries, 1.7 billion Lithium metal import করেছিল যার মূল্যমান প্রায় 7.1 billion dollar! এটাই যদি ভারতবর্ষে তৈরি করা সম্ভব হতো তাহলে প্রচুর অর্থ ব্যয় হওয়া থেকে আটকানো যেত। ফলে বর্তমানে প্রয়োজন আমাদের উন্নত টেকনোলজি!!
তবে কাশ্মীরে প্রাপ্ত এই লিথিয়াম খনিটিকে বর্তমানে G3 category তে রাখা হয়েছে! কারণ এর মধ্যে কতটা পরিমাণ খনি উত্তোলনযোগ্য তা আমরা এখনো জানিনা।এখনো এই সংক্রান্ত রিসার্চ বাকি রয়েছে। তবে শুধুমাত্র খনি উত্তোলনের চিন্তা রাখলেও চলবে না, পাশাপাশি পরিবেশের খেয়ালও রাখতে হবে। নয়তো ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটতে পারে। এক টন লিথিয়াম উত্তোলন করতে প্রচুর পরিমাণে জল অপচয় হয় এবং প্রচুর পরিমাণ carbon emission হয়। হয়তো ইলেকট্রিক যানবাহন পরবর্তীকালে কার্বনের নির্গমণ হ্রাস করবে ঠিকই কিন্তু বর্তমানে লিথিয়াম উত্তোলন করতে যদি তার চেয়ে অধিক কার্বন নির্গমন হয় তবে সেটা লাভ বৈকি ক্ষতিই হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন খনিজ সম্পদ দেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠে আবার কখনো অভিশাপ হয়ে ওঠে। যেমন কিছু কিছু দেশ খনিজ সম্পদের প্রতি এতটাই নির্ভরশীল হয়ে ওঠে যে বাকি সেক্টর গুলো তার সাথে তাল মিলিয়ে প্রগতি করতে পারে না এবং আংশিকভাবে ভেঙে পড়ে। এবং তার প্রভাব গিয়ে পড়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। ফলে সেদিকটাও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট খনিজ সম্পদের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে সেটাকে দেশের প্রগতির অস্ত্র বানিয়ে বাকি সমস্ত ইন্ডাস্ট্রিকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে চলতে হবে।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে নিজেদের বন্ধু বান্ধব এবং পরিচিত জনের সাথে share করুন।
আজকের এই আর্টিকেলটি the intellectual mind বিভাগের অন্তর্ভুক্ত!
Frequently asked questions :







Comments
Post a Comment
If you have any doubts, let me know